শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৯২-১৯৬১):

 সংক্ষিপ্ত জীবনী:-

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৯২–১৯৬১) বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, সাংবাদিক ও দেশপ্রেমিক সাহিত্যিক। তিনি বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। শিক্ষক সখারাম গণেশ দেউস্করের কাছে সাংবাদিকতার শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি হিতবাদী পত্রিকায় সখারামের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া বৈকালী, বিজলীআত্মশক্তি পত্রিকার সম্পাদক এবং দৈনিক কৃষকভারত পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে একের পর এক কালজয়ী নাটক রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে ‘সিরাজদ্দৌলা’, ‘গৈরিক পতাকা’, ‘রক্তকমল’, ‘সংগ্রাম ও শান্তি’, ‘ধাত্রী পান্না’, ‘এই স্বাধীনতা’, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’ এবং ‘রাষ্ট্রবিপ্লব’। তাঁর নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল স্বাদেশিকতা, জাতীয়তাবোধ, দেশপ্রেম এবং মানবতাবাদী চেতনা। তিনি শুধু নাটক লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নাট্যজগত ও মঞ্চাভিনয়ের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বাংলা নাট্যসাহিত্যে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় ও অনন্য।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
ক্র. নং নাটকের নাম বিষয়
সিরাজদ্দৌলা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের জীবন
গৈরিক পতাকা দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা
রক্তকমল সামাজিক ও মানবিক সমস্যা
সংগ্রাম ও শান্তি সংঘাত ও মানবতা
ধাত্রী পান্না আত্মত্যাগ ও বীরত্ব
এই স্বাধীনতা স্বাধীনতার মূল্য
সবার উপরে মানুষ সত্য মানবতাবাদ
রাষ্ট্রবিপ্লব রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিপ্লব
প্রধান অবদান 
  • বাংলা নাট্যসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার।
  • জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমমূলক নাটক রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
  • সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • বাংলা নাট্যমঞ্চের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
  • তাঁর নাটকে ইতিহাস, দেশপ্রেম, মানবতা ও সমাজচেতনার সমন্বয় দেখা যায়।