অভিষেক

 

কবিতার মূলভাব:-

  1. কবিতার রচয়িতামাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  2. কাব্যের নামমেঘনাদবধ কাব্য
  3. ছন্দ — অমিত্রাক্ষর ছন্দ।
  4. ঘটনাপ্রবাহ — বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদ ক্রুদ্ধ ও বিস্মিত হয়।
  5. লক্ষ্মীদেবীর আগমন — দেবী লক্ষ্মী মেঘনাদকে জানান যে বীরবাহু যুদ্ধে নিহত হয়েছে এবং রাবণ শোকে কাতর।
  6. মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া — সে বিশ্বাস করতে পারে না যে রামচন্দ্র আবার জীবিত হয়েছে।
  7. রাক্ষসকুল রক্ষার সংকল্প — মেঘনাদ রাক্ষস বংশের সম্মান রক্ষার জন্য যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
  8. প্রমীলার সঙ্গে বিদায় — স্ত্রী প্রমীলা স্বামীর বিচ্ছেদে কাতর হয়ে তাকে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করেন।
  9. মেঘনাদের উত্তর — সে আশ্বাস দেয় যে শত্রুকে পরাজিত করে দ্রুত ফিরে আসবে।
  10. যুদ্ধযাত্রা — বীরের সাজে সজ্জিত হয়ে মেঘনাদ রথে চড়ে যুদ্ধক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
  11. রাবণের সঙ্গে সাক্ষাৎ — রাবণের কাছে গিয়ে যুদ্ধের অনুমতি প্রার্থনা করে।
  12. রাবণের উদ্বেগ — রাবণ পুত্রকে হারানোর ভয়ে প্রথমে যুদ্ধ করতে দিতে চান না।
  13. মেঘনাদের আত্মবিশ্বাস — সে বলে, রামকে পরাজিত করা তার পক্ষে অসম্ভব নয়।
  14. নিকুম্ভিলা যজ্ঞ — রাবণ তাকে প্রথমে ইষ্টদেবতার পূজা ও নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
  15. সেনাপতি পদে অভিষেক — রাবণ গঙ্গাজল দিয়ে মেঘনাদকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।
  16. বীরত্বের প্রকাশ — সমগ্র কবিতায় মেঘনাদের সাহস, আত্মবিশ্বাস, কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
  17. মূল শিক্ষা — বিপদের সময় সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মনোভাবই প্রকৃত বীরের পরিচয়।

MCQ

১.মধুসূদনের ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত পাঠ্যাংশটি কোন কাব্য থেকে নেওয়া?
C) মেঘনাদবধ কাব্য

২. ‘কনক-আসন ত্যজি, বীরেন্দ্রকেশরী’— বীরেন্দ্রকেশরী হলেন—
A) ইন্দ্রজিৎ

৩. অম্বুরাশি-সুতা যার মৃত্যুসংবাদ দিলেন—
C) বীরবাহুর

৪. ‘ধ্বজ ইন্দ্রচাপরূপী’— ‘ইন্দ্রচাপরূপী’ বলতে বোঝায়—
A) রামধনুরূপীকে

৫. ‘কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী?’— কাকে ‘অভাগী’ বলা হয়েছে?

A) প্রমীলা

LAQ

‘এ কলঙ্ক পিতঃ, ঘুষিবে জগতে’— কোন্ কলঙ্কের কথা বলা হয়েছে? এ থেকে বক্তার কোন্ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?

আলোচ্য অংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর ‘অভিষেক’ অংশ থেকে গৃহীত। এখানে বক্তা হলেন ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ এবং শ্রোতা তাঁর পিতা রাবণ। পুত্র জীবিত ও সক্ষম থাকা সত্ত্বেও যদি পিতা রাবণ স্বয়ং যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, তবে তা রাক্ষসকুলের জন্য অপমানজনক হবে— এই কলঙ্কের কথাই এখানে বলা হয়েছে। ইন্দ্রজিৎ মনে করেন, তাঁর মতো বীর যোদ্ধা থাকতে পিতার যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া তাঁর নিজের অযোগ্যতার পরিচয় বহন করবে এবং পৃথিবীতে তা কলঙ্ক হিসেবে প্রচারিত হবে।

এই উক্তি থেকে ইন্দ্রজিতের আত্মবিশ্বাস, বীরত্ব, কর্তব্যবোধ এবং পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি রাক্ষসকুলের সম্মান রক্ষার জন্য নিজেই যুদ্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পিতাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চান না। তাঁর এই মনোভাব একজন আদর্শ বীরপুত্রের পরিচয় বহন করে।

অস্তাচলগামী দিননাথ এবে’— এ পরিস্থিতিতে বক্তা কাকে কী করতে বলেছেন?

আলোচ্য অংশে বক্তা হলেন রাবণ এবং শ্রোতা তাঁর পুত্র মেঘনাদ। সূর্য তখন অস্তাচলে গমন করছে, অর্থাৎ সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রাবণ মেঘনাদকে অবিলম্বে যুদ্ধে না গিয়ে প্রথমে ইষ্টদেব অগ্নির পূজা ও নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সম্পন্ন করতে বলেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, যজ্ঞ শেষ করে পরদিন প্রভাতে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে।

রাবণ যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলতে চেয়েছিলেন এবং একই সঙ্গে পুত্রের মঙ্গল কামনা করেছিলেন। তাই তিনি যুদ্ধের আগে দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং পরদিন যুদ্ধ করার পরামর্শ দেন।

‘ত্যজ কিঙ্করীরে আজি’— বক্তা কে? তাঁর এই উক্তির কারণ কী?

আলোচ্য উক্তির বক্তা হলেন মেঘনাদের পত্নী প্রমীলা। লঙ্কার বিপর্যয়ের সংবাদ পেয়ে মেঘনাদ দ্রুত যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওনা হতে উদ্যত হলে প্রমীলা গভীর দুঃখে এই কথা বলেন।

প্রমীলা নিজেকে স্বামীর ‘কিঙ্করী’ বা দাসী বলে উল্লেখ করেছেন। স্বামীর আকস্মিক প্রস্থানে তিনি বিচ্ছেদবেদনায় কাতর হয়ে পড়েন। তিনি মনে করেন, স্বামীকে ছাড়া তাঁর জীবন অর্থহীন। তাই তিনি প্রশ্ন করেন কেন মেঘনাদ তাঁকে পরিত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। এই উক্তির মাধ্যমে প্রমীলার স্বামীভক্তি, প্রেম, উদ্বেগ এবং বিরহজনিত বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।

‘নমি পুত্র পিতার চরণে, করজোড়ে কহিলা’— পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো।

এখানে পিতা হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ এবং পুত্র হলেন রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ।

রাবণের কাছে এসে মেঘনাদ প্রথমে প্রণাম জানিয়ে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি জানান যে, রামচন্দ্র পুনরায় জীবিত হয়েছেন শুনে তিনি বিস্মিত হলেও এবার তাঁকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার সংকল্প করেছেন। তিনি বলেন যে, প্রয়োজনে রামকে বধ করবেন অথবা বন্দি করে লঙ্কায় নিয়ে আসবেন।

পুত্রের কথা শুনে রাবণ গভীর স্নেহ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুর পরে মেঘনাদই রাক্ষসকুলের একমাত্র ভরসা। তাই তাঁকে যুদ্ধে পাঠাতে তাঁর মন সায় দেয় না। কিন্তু মেঘনাদ নিজের বীরত্ব ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে পিতাকে আশ্বস্ত করেন। অবশেষে রাবণ তাঁকে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং গঙ্গাজল দিয়ে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন। এই কথোপকথনে একদিকে পিতার স্নেহ ও উদ্বেগ, অন্যদিকে পুত্রের বীরত্ব, আত্মবিশ্বাস ও কর্তব্যবোধ সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

‘তারে ডরাও আপনি’— বক্তা ও শ্রোতা কারা? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী? শ্রোতাকে বক্তা কী বলে আশ্বস্ত করেন?

উদ্ধৃত অংশে বক্তা হলেন ইন্দ্রজিৎ এবং শ্রোতা হলেন রাবণ।

রামচন্দ্র পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং রাক্ষসদের ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে— এই পরিস্থিতিতে রাবণ পুত্রকে যুদ্ধে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি রামের শক্তি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তখন ইন্দ্রজিৎ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একজন সামান্য মানুষকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি রাবণকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, তাঁর মতো বীর যোদ্ধা থাকতে পিতার যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি পূর্বেও রামকে পরাজিত করেছেন এবং এবারও তাঁকে বধ করতে সক্ষম হবেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, রামকে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করে রাক্ষসকুলের সম্মান রক্ষা করবেন। তাঁর এই বক্তব্যে বীরোচিত আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং কর্তব্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।