কবিতার মূল ভাব :
১. ধ্বংসের ভেতরেই সৃষ্টির আনন্দ
কবিতাটির মূল সুর হলো—পুরনো, জরাজীর্ণ এবং অন্যায়কে ধ্বংস করেই নতুনের আগমন ঘটে। কবি এখানে কালবোশেখীর ঝড় এবং মহাকালের (শিবের) রুদ্র রূপের প্রতীক ব্যবহার করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই প্রলয় বা ধ্বংসকে ভয়ানক মনে হলেও, এটি আসলে নতুনের কেতন বা বিজয় পতাকা।
২. পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিপ্লব
তৎকালীন পরাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে কবি অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং শৃঙ্খল মুক্তির জন্য তরুণ সমাজকে বিপ্লবের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ভয়ের কিছু নেই; মহাকালের সারথি রক্ত-তড়িৎ চাবুক হেনে অন্ধকার কারাগারের দেয়াল ভেঙে আলো নিয়ে আসছে।
৩. চিরসুন্দরের আগমন
নজরুল বিশ্বাস করতেন যে, যা কিছু ‘অ-সুন্দর’, ‘জীবনহারা’ এবং ‘জরা-গ্রস্ত’, তাকে ছেদন বা ধ্বংস করতেই এই প্রলয়ঙ্কর রূপের আবির্ভাব। ধ্বংস শেষে মহানিশার অন্ধকার কেটে যাবে এবং ‘শিশু-চাঁদের আলোয়’ চারদিক ভরে উঠবে।
MCQ:-
১. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!”— কবি কার জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?
ক) প্রকৃতির
খ) মানুষের
গ) ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিবের ✅
ঘ) দেশমাতার
২. “ওই নূতনের কেতন ওড়ে…” — কেমনভাবে কেতন ওড়ে?
ক) লেলিহান শিখার মতো
খ) বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে
গ) কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো ✅
ঘ) হঠাৎ ধূমকেতুর দেখা দেওয়ার মতো
৩. “আসছে এবার…” — কে আসছে?
ক) জাঠ-কালাপাহাড়
খ) অত্যাচারী শাসক ইংরেজ
গ) প্রলয়ংকর শিব ✅
ঘ) নতুন পতাকা
৪. “সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল” — কে আগল ভাঙে?
ক) প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল শিব ✅
খ) জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী
গ) দেশের সাধারণ মানুষ
ঘ) বিশ্বমাতা
৫. ‘মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে’ বলতে কবি বুঝিয়েছেন—
ক) ভীতিজনক স্থান
খ) রাত্রির অন্ধকার
গ) কুসংস্কারগ্রস্ত সমাজ
ঘ) পরাধীন ভারত ✅
৬. ‘মহাকালের চণ্ড-রূপে’ আসছেন—
ক) সৃষ্টির দেবতা
খ) কালবৈশাখীর ঝড়
গ) মহাকালী
ঘ) মহাকাল বা প্রলয়ংকর শিব ✅
৭. “বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর।” — ভয়ংকরের রূপটি কার?
ক) দুর্গার
খ) মহাকালের চণ্ডরূপের ✅
গ) ধূমকেতুর
ঘ) দিগম্বরের
৮. “বিশ্বপাতার বক্ষ কোলে” — কী ঝোলে?
ক) ফুল
খ) ফল
গ) মালা
ঘ) কৃপাণ ✅
৯. অট্টরোলের হট্টগোলে—
ক) বিশ্বমায়ের আসন দুলে উঠেছে
খ) চরাচর স্তব্ধ হয়ে গেছে ✅
গ) জগৎজুড়ে প্রলয় ঘনিয়ে এসেছে
ঘ) ঝড়-তুফান এসেছে
১০. “দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায়” — কত রবির কথা বলা হয়েছে?
ক) সপ্ত
খ) দ্বাদশ ✅
গ) উষা
ঘ) খর
১১. ‘ত্রস্ত জটা’ যে বর্ণের বলা হয়েছে—
ক) লাল
খ) নীলাভ
গ) পিঙ্গল ✅
ঘ) হরিদ্রা
১২. “দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়।” — ‘পিঙ্গল’ শব্দের অর্থ—
ক) পীত (হলুদ) রঙের আভাযুক্ত গাঢ় নীল ✅
খ) সাদা
গ) রক্তবর্ণ
ঘ) নীল
১৩. “সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে/কপোলতলে।” — ‘কপোল’ শব্দের অর্থ—
ক) চিবুক
খ) কপাল
গ) গণ্ডদেশ বা গাল ✅
ঘ) গলা
১৪. “মাভৈঃ মাভৈঃ।” — ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ—
ক) ভয় কোরো না ✅
খ) ভয়ংকর
গ) সাবধান
ঘ) ভয় দূর হয়ে গেছে
১৫. “এবার মহানিশার শেষে”— কী হবে?
ক) প্রলয় আসবে
খ) মহাকাল চণ্ডরূপে আবির্ভূত হবেন
গ) নতুন সূর্য সমাজকে নতুনভাবে আলোকিত করে তুলবে ✅
ঘ) একটি নতুন রথ আকাশে দেখা দেবে
১৬. ‘করুণ বেশে’ কে আসবে?
ক) সত্য
খ) সুন্দর
গ) সূর্য বা উষা ✅
ঘ) চাঁদ
১৭. “জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ” লুকানো রয়েছে—
ক) প্রলয়ের মধ্যে
খ) ধ্বংসের মধ্যে
গ) সৃষ্টির মধ্যে
ঘ) বিনাশের মধ্যে ✅
