বহুরূপী

উৎস : বহুরূপী গল্পটির উৎস হল সুবোধ ঘোষের গল্প সমগ্র তৃতীয় খন্ড।

‘বহুরূপী’ গল্পের মূল ভাবার্থ (Main Idea)

গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা পেশায় একজন বহুরূপী। দারিদ্র্য তাঁর নিত্যসঙ্গী, প্রায়ই তাঁর উনুনে ভাতের বদলে শুধু জল ফোটে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ধরে সাধারণ দশটা-পাঁচটার একঘেয়ে চাকরি করা তাঁর অপছন্দ। তিনি স্বাধীনচেতা এবং নিজের জীবনকে নাটুকে বৈচিত্র্যে ভরিয়ে রাখতে ভালোবাসেন। কখনো উন্মাদ পাগল, কখনো রূপসি বাইজি, আবার কখনো নকল পুলিশ সেজে তিনি যেটুকু বকশিশ পান, তা দিয়েই কোনোমতে জীবন চালান।

গল্পের মূল মোড় ঘোরে ধনী ও কৃপণ ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর গল্প শোনার পর। সন্ন্যাসীকে খাতির করার নামে জগদীশবাবু কৌশলে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন এবং যাওয়ার সময় জোর করে তাঁর ঝোলায় একশো টাকা গুঁজে দিয়েছিলেন। এই গল্প শুনে হরিদার মনের ভেতর এক অনন্য শিল্পীসত্তা জেগে ওঠে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন—এবার আর কাঙালের মতো সামান্য বকশিস নেওয়া নয়, একবারে বড় কিছু করে দেখাবেন।

সেই অনুযায়ী এক শান্ত, স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় হরিদা এক পরম শান্ত ও উদাসীন ‘বিরাগী’ সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হন। তাঁর সাজসজ্জা, গভীর আধ্যাত্মিক কথাবার্তা এবং মায়ামুক্ত দৃষ্টি দেখে জগদীশবাবু তো বটেই, সেখানে উপস্থিত হরিদার বন্ধুরাও তাঁকে চিনতে ভুল করে। হরিদার এই অসাধারণ অভিনয় রূপকে ছাপিয়ে খাঁটি সত্যে পরিণত হয়। মোহাচ্ছন্ন জগদীশবাবু যখন ভক্তিভরে বিরাগীর তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার নোটের তাড়া প্রণামী হিসেবে তাঁর পায়ের কাছে রাখেন, তখন হরিদা চরম এক কাণ্ড করে বসেন। তিনি বলেন, তিনি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে যেতে পারেন, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে যেতে পারেন। টাকার থলি ওখানেই ফেলে রেখে তিনি চলে আসেন।

পরবর্তীতে বন্ধুদের প্রশ্নের উত্তরে হরিদা জানান, শত হলেও একজন বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ ধারণ করে তিনি টাকা স্পর্শ করতে পারেন না; কারণ তা করলে তাঁর ‘ঢং’ বা অভিনয়ের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়। সামান্য কয়েক আনা বকশিসের জন্য যে মানুষটি রোজ হন্যে হয়ে ঘোরে, সে-ই আবার নিজের শিল্পের মর্যাদা আর আদর্শ রক্ষা করতে গিয়ে অনায়াসে একশো এক টাকার বিপুল লোভ ত্যাগ করে।

মূল শিক্ষণীয় দিক
  • অর্থের চেয়ে শিল্পের মর্যাদা বড়: হরিদা একজন সামান্য বহুরূপী হতে পারেন, কিন্তু অন্তরে তিনি ছিলেন একজন খাঁটি শিল্পী। লোভের বশে টাকার থলিটা নিলে তিনি হয়তো অভাব থেকে মুক্তি পেতেন, কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্তা পরাজিত হতো।

  • সমাজের ভন্ডামির গালে চড়: জগদীশবাবুর মতো বিত্তবান মানুষ যারা টাকা দিয়ে পুণ্য কিনতে চায় বা সন্ন্যাসীর পা ছুঁতে ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়, তাদের সামনে হরিদার এই বিবাগী রূপ এক নীরব শিক্ষা।

  • অদৃষ্টের পরিহাস ও চরম সত্য: গল্পের শেষে হরিদা স্বীকার করেন যে তিনি খাঁটি সন্ন্যাসী নন, একজন সাধারণ বহুরূপী মাত্র। তাই পেটের তাগিদে তাঁকে আবার জগদীশবাবুর কাছে গিয়ে সামান্য আট-আনা বা দশ-আনা বকশিসই চাইতে হবে। এই চরম বাস্তবতাই হরিদার ট্রাজিক ও মহৎ চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলে।

MCQ:

‘বড়ো মানুষের কাণ্ডের খবর আমি কেমন করে শুনব?’— এখানে বড়ো মানুষ হলেন—
A) অনাদি
B) ভবতোষ
C) সন্ন্যাসী
D) জগদীশবাবু

‘কাঠের খড়মে’ কী লাগানো ছিল?
A) সোনার বোল
B) রূপার বোল
C) ব্রোঞ্জের বোল
D) লোহার নাল

নকল পুলিশ হরিদা যত অর্থ ঘুষ নিয়েছিলেন—
A) পাঁচ আনা
B) এক টাকা
C) আট আনা
D) দশ আনা

বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল—
A) আট টাকা দশ আনা
B) আট টাকা তিন আনা
C) দশ টাকা আট আনা
D) তিন টাকা আট আনা

সপ্তাহে বড়োজোর কটা দিন হরিদা বহুরূপীর বেশে বেরোন?
A) একদিন
B) দু’দিন
C) তিনদিন
D) চারদিন

SAQ:-

১. ‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু’— তাঁর চমকে ওঠার কারণ কী?
জগদীশবাবু তাঁর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীকে দেখে চমকে উঠেছিলেন। সেই সন্ন্যাসীর পরনে ছিল সাদা উত্তরীয় এবং তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল এক গভীর গাম্ভীর্য ও ত্যাগের ছাপ। হঠাৎ এমন একজন বিরাগী সন্ন্যাসীর আগমন দেখে জগদীশবাবু বিস্মিত ও অভিভূত হয়ে পড়েন। তাই তিনি চমকে উঠেছিলেন।

২. ‘তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান বিরাগীজি’— এরপর বিরাগী কোন উপদেশ শুনিয়েছিলেন?
বিরাগী উপদেশ দিয়েছিলেন যে ধন, জন ও যৌবন— এসবই ক্ষণস্থায়ী এবং একপ্রকার সুন্দর বঞ্চনা মাত্র। প্রকৃত সুখ ও পরিতৃপ্তি বস্তুগত ঐশ্বর্যে নয়, বরং ঈশ্বরপ্রাপ্তির মধ্যেই নিহিত। মনপ্রাণ দিয়ে ঈশ্বরকে লাভ করতে পারলেই জীবনের প্রকৃত ঐশ্বর্য অর্জিত হয়।

৩. ‘কিন্তু সে কী করে সম্ভব?’— কোন সম্ভাবনাকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে?
এখানে হরিদার সেই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে যে, বহুরূপীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়ি গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়তো সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ জগদীশবাবুর কার্পণ্য সুপরিচিত ছিল। তাই তাঁর কাছ থেকে ভালো অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনাকে হরিদা সন্দেহের চোখে দেখেছিলেন।

৪. ‘হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক করা চলে না।’— হরিদার কোন কথার উল্লেখ এখানে করা হয়েছে?
জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে বিরাগী সন্ন্যাসীরূপী হরিদাকে একশো টাকা দক্ষিণা দিতে চাইলে হরিদা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তাঁর মতে, বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে অর্থ স্পর্শ করা শোভনীয় নয়; তা করলে তাঁর অভিনয়ের স্বাভাবিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যাবে। এই কথারই উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. ‘আমার অপরাধ হয়েছে’— কে, কেন একথা বলেছেন?
জগদীশবাবু এই কথাটি বলেছিলেন। সন্ন্যাসীকে দেখে তিনি এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে, সিঁড়ির ওপর থেকেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সন্ন্যাসী বলেন যে, তিনি নিজেকে ভগবানের থেকেও বড়ো কিছু মনে করেন না। নিজের আচরণকে অসম্মানজনক মনে করে জগদীশবাবু বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “আমার অপরাধ হয়েছে।”

৬. ‘আশ্চর্য হয়েছি, একটু ভয়ও পেয়েছি।’— কাদের এ অবস্থা? তাদের এ অবস্থার কারণ কী?
হরিদার আড্ডার বন্ধুদের এ অবস্থা হয়েছিল। তারা জানত যে, সেদিন সন্ধ্যায় হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বহুরূপীর বেশে যাবেন। কিন্তু বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে হরিদার অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে, তাঁর নিজের বন্ধুরাও তাঁকে চিনতে পারেনি। তাঁরা মনে করেছিলেন, যেন সত্যিকারের এক সন্ন্যাসী উপস্থিত হয়েছেন। তাই তারা একই সঙ্গে আশ্চর্য ও কিছুটা ভীত হয়ে পড়েছিল।

৭. ‘সেটাই তো হরিদার জীবনের পেশা’— পেশার বর্ণনা দাও।
হরিদার পেশা ছিল বহুরূপীর কাজ। তিনি নানা ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের সামনে অভিনয় করতেন। সপ্তাহে এক বা দুদিন তিনি বিভিন্ন রূপে সাজতেন— কখনো উন্মাদ পাগল, কখনো পুলিশ, আবার কখনো রূপসী বাইজি কিংবা সন্ন্যাসীর বেশে মানুষের সামনে উপস্থিত হতেন। তাঁর অভিনয় দেখে কেউ কেউ বকশিশ দিতেন, আবার অনেকে চিনতেই পারতেন না। মানুষের আনন্দ দেওয়া এবং সেই সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল তাঁর পেশা।

৮. ‘তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়’— ‘ঢং’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীসে ঢং নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে?
এখানে ‘ঢং’ বলতে হরিদার অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, রীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে বোঝানো হয়েছে। বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে থেকে যদি তিনি জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকা গ্রহণ করতেন, তাহলে তাঁর বৈরাগ্যের ভাব ও চরিত্রের সঙ্গে অসঙ্গতি সৃষ্টি হতো। অর্থের প্রতি লোভ প্রকাশ পেলে তাঁর অভিনয়ের আন্তরিকতা নষ্ট হয়ে যেত। তাই তিনি মনে করেছিলেন, টাকা নিলে তাঁর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যাবে।

LAQ:-

হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা একজন অসাধারণ শিল্পী এবং পেশার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। বহুরূপীর কাজের মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাগল, পুলিশ, কাপালিক, রূপসী বাইজি কিংবা বিরাগী সন্ন্যাসী— যে কোনো ছদ্মবেশ তিনি এত নিখুঁতভাবে ধারণ করতেন যে পরিচিত মানুষও তাঁকে চিনতে ভুল করত। এতে তাঁর অভিনয় দক্ষতা ও শিল্পীসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

হরিদা ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও নীতিবান। পুলিশ সেজে তিনি মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে আট আনা ঘুষ নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। এতে তাঁর সততা ও মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ পায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র; অনেক সময় তাঁর উনুনে শুধু জল ফুটত, ভাত নয়। তবুও তিনি কখনও অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেননি এবং নিজের শিল্পীসত্তার সঙ্গে আপস করেননি।

তিনি ছিলেন বন্ধুপরায়ণ ও প্রাণবন্ত মানুষ। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন এবং নিজের অভিনয় দেখার জন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানাতেন। গল্পের শেষে বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকা ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, অর্থের চেয়ে তাঁর কাছে পেশার মর্যাদা ও আদর্শ অনেক বড়ো। এইভাবে শিল্পীসত্তা, সততা, আত্মসম্মান, নির্লোভ মনোভাব এবং পেশার প্রতি গভীর নিষ্ঠার সমন্বয়ে হরিদা বাংলা সাহিত্যের এক স্মরণীয় চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

‘অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না’— হরিদা কী ভুল করেছিলেন? উদ্ধৃত অংশটির সারবত্তা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

হরিদা বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর অভিনয় দক্ষতার দ্বারা জগদীশবাবুর মন জয় করেছিলেন। অভিভূত ও আপ্লুত জগদীশবাবু বিরাগীকে দক্ষিণাস্বরূপ একশো টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অর্থ গ্রহণ করলে বিরাগী সন্ন্যাসীর ‘ঢং’ বা বৈরাগ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাবে— এই বিশ্বাসে হরিদা একশো টাকা গ্রহণ করেননি। হরিদার আড্ডার বন্ধুরা তাঁর এই কাজকে ভুল বলে মনে করেছিল এবং মন্তব্য করেছিল যে, “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।”

তবে প্রকৃতপক্ষে হরিদার এই সিদ্ধান্তকে ভুল বলা যায় না। বহুরূপীর সাজের সঙ্গে তিনি এতটাই একাত্ম হয়ে যেতেন যে, সেই চরিত্রের উপযুক্ত আচরণ করাও তিনি নিজের কর্তব্য বলে মনে করতেন। বিরাগীর বেশ ধারণ করে অর্থ গ্রহণ করা তাঁর কাছে অনুচিত ছিল। তাই দারিদ্র্য ও অভাব সত্ত্বেও তিনি অর্থের প্রতি মোহ ত্যাগ করে নিজের শিল্পীসত্তা, পেশাগত সততা ও আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। বহুরূপীর পেশার প্রতি এই দায়বদ্ধতা এবং চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনই উদ্ধৃত অংশটির মূল সারবত্তা। অর্থের চেয়ে আদর্শ ও আত্মমর্যাদার মূল্য যে অনেক বেশি, হরিদার আচরণের মধ্য দিয়ে সেই শিক্ষাই ফুটে উঠেছে।

“গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা”— গল্পটি কী? কেন তিনি গম্ভীর হয়ে গেলেন?

উদ্ধৃত অংশটি সুবোধ ঘোষ রচিত ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে গৃহীত হয়েছে। হরিদার সামনে তাঁর বন্ধুরা যে গল্পটি বলেছিল, তা হলো— জগদীশবাবুর বাড়িতে একবার হিমালয় থেকে আগত এক সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন। কথিত ছিল, সেই সন্ন্যাসীর বয়স হাজার বছরেরও বেশি এবং তিনি সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খেতেন। তিনি কাউকে তাঁর পায়ের ধুলো নিতে দিতেন না। কিন্তু জগদীশবাবু কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে তাঁর সামনে ধরলে সন্ন্যাসী তা পরার জন্য পা বাড়িয়ে দেন এবং সেই সুযোগে জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেন। বিদায়ের সময় জগদীশবাবু সেই সন্ন্যাসীর ঝোলায় একশো টাকার একটি নোট জোর করে দিয়ে দেন এবং বিষয়বিমুখ সন্ন্যাসীও তা সহাস্যে গ্রহণ করেন।

এই গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপনকারী হরিদার মনে সাময়িকভাবে এই চিন্তা জেগেছিল যে, সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুকে মুগ্ধ করে হয়তো কিছু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হতে পারে। যদিও তিনি স্বভাবতই নির্লোভ ও সৎ ছিলেন, তবুও সংসারের অভাব-অনটন তাঁকে এমন চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। এই কারণেই গল্পটি শোনার পর তিনি গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে গম্ভীর হয়ে পড়েছিলেন।